সমবয়সী যুগলদের প্রেম বেশি স্থায়ী হয়ে থাকে
একে অন্যকে সহজেই বোঝে - বয়সের ব্যাবধান না থাকায় একে অন্যকে সহজেই বোঝে। ঝামেলা, ঝগড়া হলেও পরক্ষণে তা কিন্তু ঠিক হয়ে যায় । দীর্ঘদিন মান-অভিমানের পালা চলে না । সেই সঙ্গে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান সব বজায় থাকে। সেই সাথে নির্ভরযোগ্যতার পরিমানও বেশি থাকে ।


ভুল করলে Sorry বলার মানসিকতা থাকে- ভুল মানুষ মাত্রেই হয়। সেই ভুল থেকে আমরা পরবর্তীতে শিক্ষা নিই। কিন্তু দোষ স্বীকারের মধ্যে কোনও রকম লজ্জা নেই। আর সমবয়সীদের মধ্যে এই মানসিকতা থাকে। দোষ স্বীকার করলে রাগ কমে, বরং ভালোবাসা বাড়ে অনেকটাই।

অ্যাডভেঞ্চারের নেশা থাকে- সমবয়সী যুগলদের মধ্যে প্রেম কম বরং বন্ধুত্ব বেশি। ফলে ঝুঁকি নিতেও কিন্তু তাঁরা ভয় পান না। ইচ্ছে হলেই কোনও দুঃসাহসিক অভিযান সেরে ফেলার মতো মানসিকতা এঁদের মধ্যে থাকে। যার ফলে একজোট হয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন।

সব সময় একে অন্যের পাশে থাকে- সম বয়সী হওয়ায় চাহিদাটা এঁদের মধ্যে একই রকম থাকে। ফলে সঙ্গী কী চাইছেন, তাঁর ইচ্ছেপূরণ, স্বপ্ন এসবে সব সময় পাশে থাকেন আরেকজন। সাহায্য করেন, উপদেশ দেন। এভাবেই তাঁরা সফল ভাবে ভবিষ্যতের পথে হাঁটেন। অনেক ছোট ছোট মুহূর্ত ভাগ করে নেন।

সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটাতেই এঁরা ভালোবাসেন- সমবয়সী হলে একসঙ্গে সময় কাটানোর একটা মানসিকতা থাকে। একসঙ্গে আড্ডা, নিজেদের পছন্দের খাবার বানানো, পছন্দের সিরিজ দেখা সব মিলিয়ে একটা ইতিবাচকতার লক্ষণ থাকে। সেই সঙ্গে এঁদের মধ্যে সন্দেহ প্রবণতা কম। একে অপরের হাত শক্ত করে ধরেই অনায়াসে পেরিয়ে যান কঠিন বাধা। 

সঙ্গিনী সমবয়সী হলে কি সুবিধা হয় ?

  • বয়সের ব্যাবধান না থাকায় একে অন্যকে সহজেই বোঝে
  • দীর্ঘদিন মান-অভিমান হয় না 
  • ঝামেলা, ঝগড়া হলেও অল্প সময়ে ঠিক হয়ে যায় 
  • বোঝাপড়ার ব্যাপারটা বেশি ভালো হয় 
  • আপনি একজন নতুন বন্ধু পাবেন
  • একে আপরের ইমোশন বুঝতে সহজ হয় 
  • হাসি-মজার ব্যাপারটা বেশি থাকে
Priya আর Jibon যখন প্রথম আলাপ হয় তখন ওরা স্কুলে পড়ে। দুজনেই স্কুল থেকে একটি ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় গিয়েছিল। সেখানেই প্রথম বন্ধুত্ব। যদিও দুজনের স্কুল ছিল আলাদা। স্কুল পেরিয়ে কলেজ। দুজনের বিষয় আলাদা। কলেজ আলাদা। তবুও বন্ধুত্বে কোনও রকম ছেদ পড়েনি। এই বন্ধুত্বই পরবর্তীতে প্রেমে উন্নীত হয়। আর যখন ওরা বুঝল একে অপরকে ভালোবাসে, দুজন দুজনকে ভালো বোঝে সেখান থেকেই একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তাই বলেযে ওদের মধ্যে ঝগড়া হয় না এমন কিন্তু নয়। মাঝেমধ্যে তো মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়। একে অন্যকে ব্লক করে দেয়, ফোন ধরে না। কিন্তু আবার কদিন যেতে না যেতেই সব ঠিক হয়ে যায়। এছাড়াও একসঙ্গে সময় কাটানো, রান্না, লং ড্রাইভ, ট্রেকিং সবই চলত।
একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া, ভুলবোঝাবুঝি এভাবেই ওরা বেড়ে উঠছিল। আসলে কখন কীভাবে ওরা প্রেমে পড়েছে নিজেরাও জানে না। না রূপকথার মতো প্রেম করা করে নি, কিন্তু বিয়েটা ওদের কাছে ছিল রূপকথা। এখনও ওরা দুজন দুজনের খুব ভালো বন্ধু। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়টা মাঝেমধ্যে ভুলেই যায়। আর ওদের দাম্পত্য জীবনের ছবি দেখে খুশি সকলেই। দিনের পর দিন বরং প্রেম বেড়েছে ওদের মধ্যে। বর্তমান সমীক্ষাও কিন্তু বলছে, সমবয়সী যুগলদের মধ্যে প্রেম স্থায়ী হয়। সেই সঙ্গে প্রেম জীবনও হয় সুখের। কারণ

একসঙ্গে বেড়ে ওঠার মজাটাই আলাদা- একসঙ্গে বড় হয়ে ওঠার মজাটাই কিন্তু অন্যরকম। কারণ এই বেড়ে ওঠায় অনেক কিছু শেখা যায়। সব সময় যে চলার পথ মসৃণ হবে এমনটা নয়। অনেক ওঠা পড়া থাকে। আর এভাবেই ভরে ওঠে অভিজ্ঞতার ঝুলি।

একসঙ্গে বড় হয়ে ওঠার মধ্যে জড়িয়ে থাকে অনেক স্মৃতি। সেই সঙ্গে এক্ষেত্রে দুজনেই প্রায় সমমনস্ক হন। একে অপরের চাহিদা ভালো করে বুঝতে পারেন। চাওয়া, পাওয়া , লক্ষ্য এই ব্যাপারে দুজনেই থাকে অবিচল